এ আই দ্বারা তৈরিকৃত 

 কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ায় যাত্রী পারাপার ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি আধুনিক আরসিসি জেটি। প্রায় ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই জেটিগুলোর অবস্থান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে জেটির প্রকৃত প্রয়োজন ছিল, সেখানে না করে তুলনামূলক কম ব্যবহৃত এলাকায় এই ব্যয়বহুল জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবিক কোনো উপকারে আসবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

জানা গেছে, কুতুবদিয়া দ্বীপে বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়টি ঐতিহ্যবাহী ঘাট রয়েছে। এর মধ্যে বড়ঘোপ ও দরবার ঘাটে যাত্রী চলাচল সবচেয়ে বেশি। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলো উপেক্ষা করে ধুরুং ঘাট ও আকবর বলি ঘাটে দুটি জেটি নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে বাস্তবে যাত্রী ওঠানামা প্রায় নেই বললেই চলে। এখনো জেটিগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মগনামা ঘাটকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ফেরি টার্মিনাল গড়ে তোলা হলে তা বড়ঘোপসহ পুরো দ্বীপের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করত। এতে দ্বীপবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

এ বিষয়ে এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, “স্থানীয়রা শুরুতে আপত্তি না জানালে হয়তো অন্য জায়গায় জেটি নির্মাণ করা যেত। এখন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”

এদিকে উদ্বোধনের আগেই এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তব চাহিদা ও জনগণের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন