উন্নয়নের বৈষম্য—মহেশখালীতে সেতু, কুতুবদিয়ায় এখনও বালির বেড়িবাঁধ!



কক্সবাজার প্রতিনিধি | প্রতিবাদী প্রতিবেদন

কক্সবাজার জেলার উন্নয়নের চিত্র দিন দিন বদলাচ্ছে। বিশেষ করে মহেশখালীকে ঘিরে একের পর এক বড় প্রকল্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সর্বশেষ কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণের ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

কিন্তু একই সংসদীয় আসনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ কুতুবদিয়া—যেখানে হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে—সেখানে উন্নয়ন যেন এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

---

🔎 উন্নয়নের চিত্র: দুই দ্বীপ, দুই বাস্তবতা

একদিকে মহেশখালী—
✔️ সেতু নির্মাণ
✔️ বড় বড় শিল্প প্রকল্প
✔️ আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন

অন্যদিকে কুতুবদিয়া—
❌ নেই কোনো স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা
❌ বারবার অস্থায়ী বেড়িবাঁধ
❌ জিও ব্যাগ ও বালির উপর নির্ভরশীলতা

---

⚠️ বেড়িবাঁধ নাকি প্রহসন?

কুতুবদিয়ায় প্রতি বছর “বেড়িবাঁধ সংস্কার” নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—
👉 বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) দিয়ে অস্থায়ীভাবে কাজ শেষ করা হয়
👉 কয়েক মাস পরই জোয়ার বা ঝড়ে সেই বাঁধ ভেঙে যায়
👉 আবার নতুন করে “সংস্কার” প্রকল্প শুরু হয়

এই চক্র বছরের পর বছর চলতে থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যায় না।

---

💬 স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশ্ন

“আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই?”—এমন প্রশ্ন এখন কুতুবদিয়ার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

👉 কেন মহেশখালী পাবে সেতু, আর কুতুবদিয়া পাবে শুধু বালির বাঁধ?
👉 কেন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না?
👉 এই অস্থায়ী প্রকল্পের আড়ালে কি কোনো স্বার্থ জড়িত?

স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ও বালির কাজেই বেশি অর্থ লেনদেন হয়, তাই বারবার একই ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে—যার স্থায়িত্ব নেই, কিন্তু ব্যয় আছে।

---

🚨 ঝুঁকিতে পুরো দ্বীপ

প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে কুতুবদিয়ার মানুষ আতঙ্কে থাকে—
🌊 জলোচ্ছ্বাসে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার ভয়
🌪️ ঘূর্ণিঝড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা
👨‍👩‍👧‍👦 বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি

একটি টেকসই বেড়িবাঁধ শুধু অবকাঠামো নয়, এটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।

---

📢 কুতুবদিয়ার মানুষের দাবি

✔️ জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ
✔️ উন্নয়ন প্রকল্পে সমতা নিশ্চিত করা
✔️ দুর্নীতি ও অপচয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
✔️ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্বীপ রক্ষা

---

🗣️ শেষ কথা

উন্নয়ন যদি সত্যিই সবার জন্য হয়, তবে কুতুবদিয়াকে আর অবহেলা করা চলবে না।
মহেশখালী যেমন উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছে, তেমনি কুতুবদিয়ার মানুষও প্রাপ্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ।

👉 এখনই সময়—
বালির বাঁধ নয়, চাই স্থায়ী সমাধান।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন